• রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩
Bengal Links

ভুয়ো খবর: ভাইরাল ভিডিওতে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া

বেঙ্গল লিংকস

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ০১:৩৬ পিএম


ভুয়ো খবর: ভাইরাল ভিডিওতে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে সুইডেনে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটা ভিডিও শেয়ার হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি একটি বইকে আগুন দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা করছে। এরপর কয়েকজন লোক বিষয়টি লক্ষ্য করে এবং ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বইটি কেড়ে নিয়ে তাকে মারধোর করে। এখানে ভাইরাল ভিডিওর লিঙ্ক দেওয়া হল।

তথ্য যাচাই করে আমরা দেখতে পেয়েছি এই দাবি ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। ২০২১ সালের ডেনমার্কে কোরআন পোড়ানোর ঘটনার একটি ভিডিওকে সম্প্রতির সুইডেনের ঘটনা দাবি করে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে।  

উল্লেখ্য, শনিবার সুইডেনের স্টকহোমে একজন ব্যক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে জনসমক্ষে ধর্মগ্রন্থ কোরআনে পুড়িয়ে দেয় এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর পরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম ধর্মালম্বীরা এই ঘটনা তীব্র নিন্দা করে। 

ভিডিওটির আসল সত্যতা কী?

বিভিন্ন রকম প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে আমরা আসল ভিডিওটি খুঁজে পাই। তথ্য যাচাই করে আমরা দেখতে পেয়েছি ভাইরাল পোস্টের দাবি ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। ওই ভিডিওটি ২০২১ সালের, একবছর আগের ঘটনাকে সম্প্রতির ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বর্ণবাদী দল টাইট ডিরেকশন-এর একজন সদস্য রাস্তার মাঝখানে কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করে। ৩ জন ব্যক্তি বিষয়টি লক্ষ্য করে। বিক্ষোভকারীদের একজন বর্ণবাদী ওই ব্যক্তির হাত থেকে পবিত্র গ্রন্থটি কেড়ে নেয় এবং অন্যজন তাকে লাথি মারে।

গত বছর এপ্রিল মাসে রমজানের সময়, মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস, পলুদান ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি একটি “কোরআন পোড়ানো সফরে” যাবেন এবং প্রধান জনসংখ্যার মুসলমানদের জায়গাগুলিতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো শুরু করেছিলেন। এখানে এই ভিডিওটার লিঙ্ক দেওয়া হল। 

২১ শে জানুয়ারি সুইডেনে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন ডেনমার্কের রাজনীতিবিদ রাসমুস পালুদান সেই প্রতিবেদন উইঅন নামে একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে নিউজ ১৮ ও ফ্রী প্রেস জার্নাল নামে দুটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত হয়। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে ভাইরাল ভিডিওটি সম্প্রতির নয়। 

ফলাফল 

সামাজিক মাধ্যমে কোরআন পোড়ানোর যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা একবছর আগের একটি ঘটনা। বর্তমান সময়ের সঙ্গে এই ঘটনাটি কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই। শেয়ার হওয়া ভিডিওটি ভুয়ো।