• রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩
Bengal Links

দ্য মোদী কোয়েশ্চেন: গুজরাত হিংসা নিয়ে নির্মিত বিবিসি তথ্যচিত্র বিতর্ক

বেঙ্গল লিংকস | নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৩, ০৫:২১ পিএম


দ্য মোদী কোয়েশ্চেন: গুজরাত হিংসা নিয়ে নির্মিত বিবিসি তথ্যচিত্র বিতর্ক

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যতম চর্চিত বিষয় হল ‘দ্য মোদী কোয়েশ্চেন’ নামে বিবিসি-এর একটি তথ্যচিত্র। বিবিসি বা ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন হল লন্ডন স্থিত সংস্থা সংবাদ তথা মাল্টিমিডিয়া সংস্থা। এই বিবিসি ২০০২ সালের গুজরাত হিংসা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করে যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। 

এই তথ্যচিত্র দাবি করা হয় যে বিবিসি-এর ইনভেস্টিগেশন বিভাগ এমন একটি রিপোর্ট পেয়েছ যা গুজরাত হিংসার জন্য মোদীকে দায়ী করে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এমন পরিবেশ তৈরি করে যার ফলে হিংসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অযোধ্যা থেকে গুজরাতগামী একটি ট্রেন পুড়ে ৫৮ জন হিন্দুর মৃত্যুর পর ২০০২ সালে গুজরাতের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক হিংসার সৃষ্টি হয়। এই হিংসায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত।  

‘দ্য মোদী কোয়েশ্চেন’ তথ্যচিত্র কী দেখানো হয়েছে?

যুক্তরাজ্যের সরকারের ইনভেস্টিগেশন টিমের একজন প্রাক্তন সিনিয়র কূটনীতিবিদকে এই তথ্যচিত্রে দেখা যায়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সংস্থা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিকল্পনা করেন। 

তিনি বলেন, “ওই হিংসায় কমপক্ষে ২,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয় যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। আমরা এটিকে একটি ইচ্ছাকৃত এবং রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত গণহত্যা বলে বর্ণনা করছি। ভিএইচপি এবং তাদের সহযোগীরা রাজ্য সরকারের দায়মুক্তি সাহায্য ছাড়া এত ক্ষয়ক্ষতি কোর্টে পারত না। নরেন্দ্র মোদী সরাসরিভাবে দায়ী।”

জ্যাক স্ট্র, যুক্তরাজ্যের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব, বলেন মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তার খ্যাতি ক্ষুন্ন করেছে। বিবিসি তথ্যচিত্রে তিনি বলেন, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর দাবি যে মুখ্যমন্ত্রী মোদী পুলিশকে ফিরিয়ে আনতে এবং হিন্দু চরমপন্থীদের উত্সাহিত করতে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।”

স্ট্র বলেন যে তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং গুজরাতে কী হয়েছে তা জানতে ওই কমিটিকে গুজরাতে পাঠান। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ২০০২ সালের পর্যায়ক্রমিক হিংসায় সম্প্রদায় বিদ্বেষের স্পষ্ট ছাপ ছিল। বিবিসি-এর রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে ২০০২ সালের হিংসায় প্রচুর সংখ্যক মুসলিম মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়। 

যারা গুজারাত হিংসার স্বীকার হয়েছিলেন তাদের বক্তব্যও দেখানো হয় বিবিসি-এর তথ্যচিত্রে। একজন ব্রিটিশ নাগরিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এই তথ্যচিত্রে। ২০০২ সালের ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৮। 

 ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া

ভারত বিবিসি-এর এই তথ্যচিত্রকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছেন যে এই তথ্যচিত্রে “নিরবিচ্ছিন্ন ঔপনিবেশিক মানসিকতা” দেখা গিয়েছে।

“মনে রাখবেন যে এটি ভারতে প্রদর্শিত হয়নি। তাই, আমি এটি সম্পর্কে যা শুনেছি এবং আমার সহকর্মীরা যা দেখেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি কেবল মন্তব্য করতে যাচ্ছি। আমাকে শুধুমাত্র এটি স্পষ্ট করে বলতে দিন যে আমরা মনে করি এটি একটি একটি বিশেষ কুখ্যাত আখ্যানকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা প্রোপাগান্ডা অংশ। পক্ষপাত, বস্তুনিষ্ঠতার অভাব এবং স্পষ্টতই একটি অব্যাহত ঔপনিবেশিক মানসিকতা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান,” একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বাগচি বলেন। 

যুক্তরাজ্যের সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক জানিয়েছেন যে তিনি তথ্যচিত্রের “চরিত্রায়ন” নিয়ে একমত। তিনি নিজেকে এই বিবিসি তথ্যচিত্র বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে চান।

তিনি বলেন, “এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবর্তিত হয়নি। অবশ্যই, আমরা নিপীড়ন সহ্য করি না যেখানে এটি কোথাও প্রদর্শিত হয় তবে আমি নিশ্চিত নই যে তথ্যচিত্রে মাননীয়র চরিত্র নিয়ে একমত কিনা।”